Saturday, October 16
Shadow

সূরা আয যারিয়াত (অর্থ, নামকরণ, শানে নুযূল, পটভূমি ও বিষয়বস্তু)

‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

নামকরণ

সূরার প্রথম শব্দ আয যারিয়াত থেকে এর নাম গৃহীত হয়েছে । অর্থাৎ এটি সেই সূরা যা আয যারিয়াত শব্দ দ্বারা শুরু হয়েছে ।

নাযিল হওয়ার সময়কাল

বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভঙ্গী থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, যে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসলামী আন্দোলনের মোকাবিলা অস্বীকৃতি, ঠাট্রা-বিদ্রুপ ও মিথ্যা অভিযোগ আরোপের মাধ্যমে অত্যন্ত জোরে শোরেই করা হচ্ছিলো ঠিকই কিন্তু তখনো জুলুম ও নিষ্ঠুরতার যাঁতাকালে নিষ্পেষণ শুরু হয়নি, ঠিক সেই যুগে এ সূরাটি নাযিল হয়েছিলো । এ কারণে যে যুগে সূরা ক্বাফ নাযিল হয়েছিলে এটিই সে যুগের নাযিল হওয়া সূরা বলে প্রতীয়মান হয় ।

বিষয়বস্তু মূল বক্তব্য

এর অধিকাংশটাই জুড়ে আছে আখেরাত সম্পর্কিত আলোচনা এবং শেষভাগে তাওহীদের দাওয়াত পেশ করা হয়েছে । সাথে সাথে মানুষকে এ বিষয়েও হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছে যে, নবী -রসূলদের ( আ) কথা না মানা এবং নিজেদের জাহেলী ধ্যান-ধারণা আকড়ে ধরে একগুঁয়েমী করা সেসব জাতির নিজেদের জন্যই ধ্বংসাত্মক প্রমাণিত হয়েছে যারা এ নীতি অবলম্বন করেছিলো ।

এ সূরার ছোট ছোট কিন্তু অত্যন্ত অর্থপূর্ণ আয়াতসমূহে আখেরাত সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে, মানব জীবনের পরিণাম ও পরিণতি সম্পর্কে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ও পরস্পর বিরোধী আকীদা-বিশ্বাস পোষণ করে । এটাই প্রমাণ করে যে, এসব আকীদা-বিশ্বাসের কোনটিই জ্ঞানগত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় । প্রত্যেকেই নিজের অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে নিজ নিজ অবস্থানে যে মতবাদ গড়ে নিয়েছে সেটাকেই সে তার আঁকিদা-বিশ্বাস বানিয়ে আঁকড়ে ধরেছে । কেউ মনে করে নিয়েছে, মৃত্যুর পরে কোন জীবন হবে না । কেউ আখেরাত মানলেও জন্মান্তর বাদের ধারণা সহ মেনেছে । কেউ আখেরাতের জীবন এবং পুরস্কার ও শাস্তির কথা বিশ্বাস করলেও কর্মের প্রতিফল থেকে বাঁচার জন্য নানা রকমের সহায় ও অবলম্বন কল্পনা করে নিয়েছে । যে বিষয়ে ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ভুল হলে তার গোটা জীবনকেই ব্যর্থ এবং চিরদিনের জন্য তার ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দেয় এমন একটি বড় ও সর্বাধিক গুরুত্ববহ মৌলিক বিষয়ে জ্ঞান ছাড়া শুধু অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে কোন আকীদা-বিশ্বাস গড়ে নেয়া একটি সর্বনাশা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয় । এর অর্থ হলো, মানুষ একটি বড় ভ্রান্তিতে ডুবে থেকে গোটা জীবন জাহেলী ঔদাসীন্যে কাটিয়ে দেবে এবং মৃত্যুর পর হঠাৎ এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে যার জন্য সে আদৌ প্রস্তুত গ্রহণ করেনি । এরূপ বিষয় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটিই মাত্র পথ আছে, তা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নবী আখেরাত সম্পর্কে যে জ্ঞান দান করেছেন সে বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ধীর মস্তিষ্কে গভীরভাবে ভেবে দেখবে এবং আসমান ও যমীনের ব্যবস্থাপনা এবং নিজের সত্তা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে উন্মুক্ত চোখে দেখবে যে, চার পাশে সেই জ্ঞানটির যথাযর্থতার স্বপক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান আছে কিনা? এ ক্ষেত্রে বাতাস ও বৃষ্টির ব্যবস্থাপনা পৃথিবীর গঠনাকৃতি এবং তার সৃষ্টিকূল মানুষ নিজে, আসমানের সৃষ্টি এবং পৃথিবীর সকল বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করাকে আখেরাতের প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে এবং মানবেতিহাস থেকে উদাহারণ পেশ করে বলা হয়েছে যে, একটা কর্মফল ব্যবস্থা থাকা যে অত্যাবশ্যক এটা এ বিশ্ব-সম্রাজ্যের স্বভাব -প্রকৃতি স্বতস্ফূর্ত দাবী বলেই প্রতীয়মান হয় ।

এরপর অতি সংক্ষিপ্তভাবে তাওহীদের দাওয়াত পেশ করে বলা হয়েছে তোমাদের স্রষ্টা তোমাদেরকে অন্যদের বন্দেগী ও দাসত্বের জন্য সৃষ্টি করেননি, বরং নিজের বন্দেগী ও দাসত্বের জন্য সৃষ্টি করেছেন । তিনি তোমাদের মিথ্যা উপাস্যদের মত নন । তোমাদের মিথ্যা উপাস্যরা তোমাদের থেকে রিযিক গ্রহন করে এবং তোমাদের সাহায্য ছাড়া তাদের প্রভুত্ব অচল । তিনি এমন উপাস্য যিনি সবার রিযিকদাতা । তিনি কারো নিকট থেকে রিযক গ্রহণের মুখাপেক্ষী নন এবং নিজ ক্ষমতাবলেই তার প্রভুত্ব চলছে ।

এ প্রসঙ্গে একথাও বলা হয়েছে যে, যখনই নবী-রসূলের বিরোধীতা করা হয়েছে তা যুক্তির ভিত্তিতে না করে একগুঁয়েমী , হঠকারীতা এবং জাহেলী অহংকারের ভিত্তিতে করা হয়েছে । ঠিক যেমনটি আজ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে । অথচ এর উৎস ও চালিক শক্তি বিদ্রোহাত্মক মনোভাব ছাড়া আর কিছুই নয় । অতপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন তিনি এসব বিদ্রোহীদের আদৌ ভ্রুক্ষেপ না করেন এবং নিজের দাওয়াত ও নসীহতের কাজ চালিয়ে যান । কারণ, তা এ লোকদের কোন উপকারে না আসলেও ইমানদারদের জন্য অবশ্যই উপকারে আসবে । কিন্তু যেসব জালেম তাদের বিদ্রোহের ওপর অটল তাদের প্রাপ্য শাস্তি প্রস্তুত হয়ে আছে । কারণ, তাদের পূর্বে এ নীতি ও আচরণ অবলম্বনকারী জালেমরাও তাদের প্রাপ্য আযাব পুরোপুরি লাভ করেছে ।

﴿بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالذَّارِيَاتِ ذَرْوًا﴾

১) শপথ সে বাতাসের যা ধূলাবালি উড়ায়৷

﴿فَالْحَامِلَاتِ وِقْرًا﴾

২) আবার পানি ভরা মেঘরাশি বয়ে নিয়ে যায়

﴿فَالْجَارِيَاتِ يُسْرًا﴾

৩) তারপর ধীর মৃদুমন্দ গতিতে বয়ে যায়৷

﴿فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْرًا﴾

৪) অতপর একটি বড় জিনিস (বৃষ্টি) বন্টন করে৷

﴿إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌ﴾

৫) প্রকৃত ব্যাপার হলো, তোমাদেরকে যে জিনিসের ভীতি প্রদির্শন করা হচ্ছে তা সত্য৷

﴿وَإِنَّ الدِّينَ لَوَاقِعٌ﴾

৬) কর্মফল প্রদানের সময় অবশ্যই আসবে৷

﴿وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْحُبُكِ﴾

৭) শপথ বিবিধ আকৃতি ধারণকারী আসমানের৷

﴿إِنَّكُمْ لَفِي قَوْلٍ مُّخْتَلِفٍ﴾

৮) (আখেরাত সম্পর্কে) তোমাদের কথা পরস্পর ভিন্ন৷

﴿يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ﴾

৯) তার ব্যাপারে সে-ই বিরক্ত যে হকের প্রতি বিমুখ৷

﴿قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ﴾

১০) ধ্বংস হয়েছে অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা,

﴿الَّذِينَ هُمْ فِي غَمْرَةٍ سَاهُونَ﴾

১১) যারা অজ্ঞতায় নিমজ্জিত এবং গাফলতিতে বিভোর৷

﴿يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ﴾

১২) তারা জিজ্ঞেস করে, তবে সেই কর্মফল দিবস কবে আসবে ?

﴿يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ﴾

১৩) তা সেদিন আসবে যেদিন তাদের আগুনে ভাজা হবে৷

﴿ذُوقُوا فِتْنَتَكُمْ هَٰذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ﴾

১৪) (এদের বলা হবে) এখন তোমাদের ফিতনার স্বাদ গ্রহণ করো৷ এটা সেই বস্তু যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করছিলে৷

﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ﴾

১৫) তবে মুত্তাকীরা সেদিন বাগান ও ঝর্ণাধারার মধ্যে অবস্থান করবে৷

﴿آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَٰلِكَ مُحْسِنِينَ﴾

১৬) তাদের রব যা কিছু তাদের দান করবেন তা সানন্দে গ্রহণ করতে থাকবে৷ সেদিনটি আসার পূর্বে তারা ছিল সৎকর্মশীল৷

﴿كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ﴾

১৭) রাতের বেলা তারা কমই ঘুমাতো৷

﴿وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ﴾

১৮) তারপর তারাই আবার রাতের শেষ গ্রহরগুলোতে ক্ষমা প্রার্থনা করতো৷

﴿وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ﴾

১৯) তাদের সম্পদে অধিকার ছিল প্রার্থী ও বঞ্চিতদের৷

﴿وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِّلْمُوقِنِينَ﴾

২০) দৃঢ় প্রত্যয় পোষাণকারীদের জন্য পৃথিবীতে বহু নিদর্শন করেছে৷

﴿وَفِي أَنفُسِكُمْ ۚ أَفَلَا تُبْصِرُونَ﴾

২১) এবং তোমাদের সত্তার মধ্যেও৷ তোমরা কি দেখ না?

﴿وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ﴾

২২) আসমানেই রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং সে জিনিসও যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হচ্ছে৷

﴿فَوَرَبِّ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ لَحَقٌّ مِّثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ﴾

২৩) তাই আসমান ও যমীনের মালিকের শপথ, একথা সত্য এবং তেমনই নিশ্চিত যেমন তোমরা কথা বলছো৷

﴿هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ﴾

২৪) হে নবী, ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের কাহিনী কি তোমার কাছে পৌঁছেছে?

﴿إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ قَوْمٌ مُّنكَرُونَ﴾

২৫) তারা যখন তার কাছে আসলো, বললোঃ আপনার প্রতি সালাম৷ সে বললোঃ “আপনাদেরকেও সালাম- কিছু সংখ্যক অপরিচিত লোক৷

﴿فَرَاغَ إِلَىٰ أَهْلِهِ فَجَاءَ بِعِجْلٍ سَمِينٍ﴾

২৬) পরে সে নীরবে তার পরিবারের লোকদের কাছে গেল এবং একটা মোটা তাজা বাছুর

﴿فَقَرَّبَهُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ﴾

২৭) এনে মেহমানদের সামনে পেশ করলো৷ সে বললোঃ আপনারা খান না কেন?

﴿فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۖ قَالُوا لَا تَخَفْ ۖ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ﴾

২৮) তারপর সে মনে মনে তাদের ভয় পেয়ে গেল৷  তারা বললোঃ ভয় পাবেন না৷ তাছাড়া তারা তাকে এক জ্ঞানবান পুত্র সন্তান জন্মের সুসংবাদ দিল৷

﴿فَأَقْبَلَتِ امْرَأَتُهُ فِي صَرَّةٍ فَصَكَّتْ وَجْهَهَا وَقَالَتْ عَجُوزٌ عَقِيمٌ﴾

২৯) একথা শুনে তার স্ত্রী চিৎকার করতে করতে অগ্রসর হলো৷ সে আপন গালে চপেটাঘাত করে বললোঃ বুড়ী বন্ধ্যা৷

﴿قَالُوا كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ ۖ إِنَّهُ هُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ﴾

৩০) তারা বললোঃ তোমার রব একথাই বলেছেন৷ তিনি মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ৷

﴿قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ﴾

৩১) ইবরাহীম বললোঃ হে আল্লাহর প্রেরিত দূতগণ, আপনাদের অভিপ্রায় কি ?

﴿قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمٍ مُّجْرِمِينَ﴾

৩২) তারা বললোঃ আমাদেরকে একটি পাপী জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে৷

﴿لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِّن طِينٍ﴾

৩৩) যাতে আমরা তাদের ওপর পোড়ানো মাটির পাথর বর্ষণ করি৷

﴿مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ﴾

৩৪) যা আপনার রবের কাছে সীমালংঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত আছে৷

﴿فَأَخْرَجْنَا مَن كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾

৩৫) অতপর ঐ জনপদে যারা মু’মিন ছিলো তাদের সবাইকে বের করে নিলাম৷

﴿فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ﴾

৩৬) আমি সেখানে একটি পরিবার ছাড়া আর কোন মুসলিম পরিবার পাইনি৷

﴿وَتَرَكْنَا فِيهَا آيَةً لِّلَّذِينَ يَخَافُونَ الْعَذَابَ الْأَلِيمَ﴾

৩৭) অতপর যারা কঠোর আযাবকে ভয় করে তাদের জন্য সেখানে একটি নিদর্শন রেখে দিয়েছি৷

﴿وَفِي مُوسَىٰ إِذْ أَرْسَلْنَاهُ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ﴾

৩৮) এ ছাড়া (তোমাদের জন্য নিদর্শন আছে) মূসার কাহিনীতে৷ আমি যখন তাকে স্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউনের কাছে পাঠালাম

﴿فَتَوَلَّىٰ بِرُكْنِهِ وَقَالَ سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ﴾

৩৯) তখন সে নিজের শক্তিমত্তার ওপর গর্ব প্রকাশ করলো এবং বললোঃ এ তো যাদুকর কিংবা পাগল৷

﴿فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌ﴾

৪০) অবশেষে আমি তাকে ও তার সৈন্যদেরকে পাকড়াও করলাম এবং সবাইকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম৷ আর সে তিরস্কৃত ও নিন্দিত হলো৷

﴿وَفِي عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ﴾

৪১) তাছাড়া (তোমাদের জন্য নিদর্শন আছে) আদ জাতির মধ্যে যখন আমি তাদের ওপর এমন অশুভ বাতাস পাঠালাম যে,

﴿مَا تَذَرُ مِن شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيمِ﴾

৪২) তা যে জিনিসের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলো তাকেই জরাজীর্ণ করে ফেললো৷

﴿وَفِي ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا حَتَّىٰ حِينٍ﴾

৪৩) তাছাড়া (তোমাদের জন্য নিদর্শন আছে) সামূদ জাতির মধ্যে৷ যখন তাদের বলা হয়েছিলো, যে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজা লুটে নাও৷

﴿فَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ وَهُمْ يَنظُرُونَ﴾

৪৪) কিন্তু এ সতর্কীকরণ সত্ত্বেও তারা তাদের রবের হুকুম অমান্য করলো৷ অবশেষে তারা দেখতে দেখতে অকস্মাত আগমনকারী আযাব তাদের ওপর আপতিত হলো৷

﴿فَمَا اسْتَطَاعُوا مِن قِيَامٍ وَمَا كَانُوا مُنتَصِرِينَ﴾

৪৫) এরপর উঠে দাঁড়ানোর শক্তিও তাদের থাকলো না এবং তারা নিজেদের রক্ষা করতেও সক্ষম ছিল না৷

﴿وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ﴾

৪৬) আর এদের সবার পূর্বে আমি নূহের কওমকে ধ্বংস করেছিলাম৷ কারণ তারা ছিল ফাসেক৷

﴿وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ﴾

৪৭) আসমানকে আমি নিজের ক্ষমতায় বানিয়েছি এবং সে শক্তি আমার আছে৷

﴿وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ﴾

৪৮) যমীনকে আমি বিছিয়ে দিয়েছি৷ আমি উত্তম সমতলকারী৷

﴿وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾

৪৯) আমি প্রত্যেক জিনিসের জোড়া বানিয়েছি৷ হয়তো তোমরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে৷

﴿فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ﴾

৫০) অতএব আল্লাহর দিকে ধাবিত হও৷ আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমার জন্য স্পষ্ট সাবধানকারী৷

﴿وَلَا تَجْعَلُوا مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ﴾

৫১) আল্লাহর সাথে আর কউকে উপাস্য বানাবে না৷ আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সাবধানকারী৷

﴿كَذَٰلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ﴾

৫২) এভাবেই হয়ে এসেছে৷ এদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাছেও এমন কোন রসূল আসেনি যাকে তারা যাদুকর বা পাগল বলেনি৷

﴿أَتَوَاصَوْا بِهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ﴾

৫৩) এরা কি এ ব্যাপারে পরস্পর কোন সমঝোতা করে নিয়েছে ? না, এরা সবাই বরং বিদ্রোহী৷

﴿فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَا أَنتَ بِمَلُومٍ﴾

৫৪) অতএব, হে নবী, তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও৷ এ জন্য তোমার প্রতি কোন তিরস্কার বাণী নেই৷

﴿وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَىٰ تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ﴾

৫৫) তবে উপদেশ দিতে থাকো৷ কেননা, উপদেশ ঈমান গ্রহণকারীদের জন্য উপকারী৷

﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ﴾

৫৬) জিন ও মানুষকে আমি শুধু এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার দাসত্ব করবে৷

﴿مَا أُرِيدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَن يُطْعِمُونِ﴾

৫৭) আমি তাদের কাছে কোন রিযিক চাই না কিংবা তারা আমাকে খাওয়াবে তাও চাই না৷

﴿إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ﴾

৫৮) আল্লাহ নিজেই রিযিকদাতা এবং অত্যন্ত শক্তিধর ও পরাক্রমশালী৷

﴿فَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذَنُوبًا مِّثْلَ ذَنُوبِ أَصْحَابِهِمْ فَلَا يَسْتَعْجِلُونِ﴾

৫৯) তাই যারা জুলুম করেছে তাদের প্রাপ্য হিসেবে ঠিক তেমনি আযাব প্রস্তুত আছে যেমনটি এদের মত লোকেরা তাদের অংশ পুরো লাভ করেছে৷ সে জন্য এসব লোক যেন আমার কাছে তাড়াহুড়ো না করে৷

﴿فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِن يَوْمِهِمُ الَّذِي يُوعَدُونَ﴾

৬০) যেদিনের ভয় তাদের দেখানো হচ্ছে পরিণামে সেদিন তাদের জন্য ধ্বংস রয়েছে৷

 


‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

Leave a Reply