Saturday, April 10
Shadow

সূরা আত তাকবীর (অর্থ, নামকরণ, শানে নুযূল, পটভূমি ও বিষয়বস্তু)

‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

নামকরণ

সূরার প্রথম বাক্যের ( আরবী —————-) শব্দটি থেকে নামকরণ করা হয়েছে। তাকভীর ( আরবী ) হচ্ছে মূল শব্দ। তা থেকে অতীত কালের কর্তৃবাচ্য অর্থে কুওভিরাত ( আরবী ) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর মানে হচ্ছে , গুটিয়ে ফেলা হয়েছে । এই নামকরণের অর্থ হচ্ছে , এটি সেই সূরা যার মধ্যে গুটিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে।

নাযিলের সময়কাল

বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগী থেকে পরিস্কারভাবে জানা যায় , এটি মক্কা মু’আযযমার প্রথম যুগের নাযিল হওয়া সূরাগুলোর অন্তরভুক্ত।

বিষয়বস্তু মুল বক্তব্য

এর বিষয়বস্তু হচ্ছে দু’টি : আখেরাত ও রিসালাত।

[important]প্রথম ছ’টি আয়াতে কিয়ামতের প্রথম পর্বের উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে : যখন সূর্য আলোহীন হয়ে পড়বে। তারকারা স্থানচ্যুত হয়ে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হবে । পাহাড়গুলো পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে উৎপাদিত হয়ে শূন্যে উড়তে থাকবে। মানুষ তাদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসের কথা ভুলে যাবে। বনের পশুরা আতংকিত ও দিশেহারা হয়ে সব এক জায়গায় জড়ো হয়ে যাবে। সমুদ্র স্ফীত হবে ও জ্বলে উঠবে। পরবর্তী সাতটি আয়াতে কিয়ামতের দ্বিতীয় পর্বের উল্লেখ করে বলা হয়েছে : যখন রূহগুলোকে আবার নতুন করে শরীরের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হবে। আমলনামা খুলে দেয়া হবে। অপরাধের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আকাশের সমস্ত পরদা সরে যাবে। এবং জান্নাত – জাহান্নাম ইত্যাদি সব জিনিসই চোখের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে । আখেরাতের এই ধরনের একটি পুরোপুরি ছবি আঁকার পর একথা বলে মানুষকে চিন্তা করার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে যে , সে সময় প্রত্যেক ব্যক্তি কি পাথেয় সংগ্রহ করে এনেছে তা সে নিজেই জানতে পারবে।[/important]

[notice]এরপর রিসালাত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এ ক্ষেত্রে মক্কাবাসীদেরকে বলা হয়েছে , মুহাম্ম্‌দ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের সামনে যা কিছু পেশ করছেন সেগুলো কোন পাগলের প্রলাপ নয়। কোন শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও বিভ্রান্তিও নয় । বরং সেগুলো আল্লাহর প্রেরিত একজন উন্নত মর্যাদা সম্পন্ন বুযর্গ ও বিশ্বস্ত বাণীবাহকের বিবৃতি , যাঁকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উন্মুক্ত আকাশের দিগন্তে দিনের উজ্জ্বল আলোয় নিজের চোখে দেখেছেন । এই শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তোমরা কোন দিকে চলে যাচ্ছো?[/notice]

﴿بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ﴾

১) যখন সূর্য গুটিয়ে নেয়া হবে৷  

﴿وَإِذَا النُّجُومُ انكَدَرَتْ﴾

২) যখন তারকারা চারদিকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে৷  

﴿وَإِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ﴾

৩) যখন পাহাড়গুলোকে চলমান করা হবে৷  

﴿وَإِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ﴾

৪) যখন দশ মাসের গর্ভবতী উটনীগুলোকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেয়া হবে৷  

﴿وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ﴾

৫) যখন বন্য পশুদের চারদিকে থেকে এনে একত্র করা হবে৷  

﴿وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ﴾

৬) যখন সমুদ্রগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে৷  

﴿وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ﴾

৭) যখন প্রাণসমূয়হকে ( দেহের সাথে ) জুড়ে দেয়া হবে৷  

﴿وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ﴾

৮) যখন জীবিত পুঁতে ফেলা মেয়েকে জিজ্ঞেস করা হবে ,  

﴿بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ﴾

৯) কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে ?  

﴿وَإِذَا الصُّحُفُ نُشِرَتْ﴾

১০) যখন আমলনামাসহ খুলে ধরা হবে৷  

﴿وَإِذَا السَّمَاءُ كُشِطَتْ﴾

১১) যখন আকাশের পরদা সরিয়ে ফেলা হবে৷  

﴿وَإِذَا الْجَحِيمُ سُعِّرَتْ﴾

১২) যখন জাহান্নামের আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে  

﴿وَإِذَا الْجَنَّةُ أُزْلِفَتْ﴾

১৩) এবং জান্নাতকে নিকটে আনা হবে৷  

﴿عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا أَحْضَرَتْ﴾

১৪) সে সময় প্রত্যেক ব্যক্তি জনতে পারবে সে কি নিয়ে এসেছে৷ কাজেই , না ,  

﴿فَلَا أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ﴾

১৫) আমি কসম খাচ্ছি পেছনে ফিরে আসা  

﴿الْجَوَارِ الْكُنَّسِ﴾

১৬) ও অদৃশ্য হয়ে যাওয়া তারকারাজির এবং রাত্রির ,  

﴿وَاللَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ﴾

১৭) যখন তা বিদায় নিয়েছে  

﴿وَالصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ﴾

১৮) এবং প্রভাতের , যখন তা শ্বাস ফেলেছে৷  

﴿إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ﴾

১৯) এটি প্রকৃতপক্ষে একজন সম্মানিত বাণীবাহকের বাণী ,  

﴿ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ﴾

২০) যিনি বড়ই শক্তিধর ,আরশের মালিকের কাছে উন্নত মর্যাদার অধিকারী ,  

﴿مُّطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ﴾

২১) সেখানে তার হুকুম মেনে চলা হয় , তিনি আস্থাভাজন ৷  

﴿وَمَا صَاحِبُكُم بِمَجْنُونٍ﴾

২২) আর ( হে মক্কাবাসীরা ! ) তোমাদের সাথী পাগল নয়৷  

﴿وَلَقَدْ رَآهُ بِالْأُفُقِ الْمُبِينِ﴾

২৩) সেই বাণীবাহককে দেখেছে উজ্জ্বল দিগন্তে ৷  

﴿وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ﴾

২৪) আর সে গায়েবের ( এই জ্ঞান লোকদের কাছে পৌঁছানেরা ) ব্যাপারে কৃপণ নয়৷  

﴿وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَانٍ رَّجِيمٍ﴾

২৫) এটা কোন অভিশপ্ত শয়তানের বাক্য নয়৷  

﴿فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ﴾

২৬) কাজেই তোমরা কোথায় চলে যাচ্ছো ?  

﴿إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِينَ﴾

২৭) এটা তো সারা জাহানের অধিবাসীদের জন্য একটা উপদেশ ৷  

﴿لِمَن شَاءَ مِنكُمْ أَن يَسْتَقِيمَ﴾

২৮) তোমাদের মধ্য থেকে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য , যে সত্য সরল পথে চলতে চায়৷  

﴿وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ﴾

২৯) আর তোমাদের চাইলেই কিছু হয় না , যতক্ষণ না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তা চান৷

 


‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

Leave a Reply