Saturday, April 10
Shadow

সূরা আন নাবা (অর্থ, নামকরণ, শানে নুযূল, পটভূমি ও বিষয়বস্তু)

‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

নামকরণ :

সূরার দ্বিতীয় আয়াতের ———– বাক্যাংশের ‘আন নাবা’ শব্দটিকে এর নাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর এটি কেবল নামই নয় , এই সূরার সমগ্র বিষয়বস্তুর শিরোনামও এটিই। কারণ নাবা মানে হচ্ছে কিয়ামত ও আখেরাতের খবর। আর এই সূরায় এরি ওপর সমস্ত আলোচনা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে।

নাযিলের সময় কাল:

সূরা আল মুরসালাতের ভূমিকায় আগেই বলে এসেছি , সূরা আল কিয়ামাহ থেকে সূরা আন নাযিআ’ত পর্যন্ত সবক’টি সূরার বিষয়বস্তু পরস্পরের সাথে একটা মিল আছে এবং এ সবগুলোই মক্কা মুআয্‌যমার প্রাথমিক যুগে নাযিল হয়েছিল বলে মনে হয়।

বিষয়বস্তু  আলোচ্য বিষয়

সূরা আল মুরসালাতে যে বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে এখানেও সেই একই বিষয়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ এখানেও কিয়ামত ও আখেরাত অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রমাণ এবং তা মানা ও না মানার পরিণতি সম্পর্কে লোকদের অবহিত করা হয়েছে।

[notice]রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম দিকে মক্কা মুআযযমায় তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করেন। এক , আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে কাউকে শরীক করা যাবে না। দুই তাঁকে আল্লাহ নিজের রসূলের পদে নিযুক্ত করেছেন। তিন , এই দুনিয়া একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর শুরু হবে আর এক নতুন জগতের। সেখানে আগের ও পরের সব লোকদের আবার জীবিত করা হবে। দুনিয়ার যে দৈহিক কাঠামো ধারণ করে তারা কাজ করেছিল সেই কাঠামো সহকারে তাদের উঠানো হবে। তারপর তাদের বিশ্বাস ও কাজের হিসেব নেয়া হবে। এই হিসেব নিকেশের ভিত্তিতে যারা ঈমানদার ও ফাসেক প্রমাণিত হবে তারা চিরকালের জন্য প্রবেশ করবে জাহান্নামে।[/notice]

এই তিনটি বিষয়ের মধ্য থেকে প্রথমটি আরবদের কাছে যতই অপছন্দনীয় হোক না কেন তারা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করতো না। তারা আল্লাহকে সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ও সর্বশ্রেষ্ঠ রব এবং স্রষ্টা ও রিজিকদাতা বলেও মানতো। অন্য যেসব সত্তাকে তারা ইলাহ ও মাবুদ গণ্য করতো তাদের সবাইকে আল্লাহরই সৃষ্টি বলেও স্বীকার করতো । তাই আল্লাহর সার্বভৌমত্বের গুণাবলী ও ক্ষমতায় এবং তাঁর ইলাহ হবার মূল সত্তায় তাদের কোন অংশীদারীত্ব আছে কি নেই এটিই ছিল মূল বিরোধীয় বিষয়।

দ্বিতীয় বিষয়টি মক্কার লোকেরা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। তবে নবুওয়াতের দাবী করার আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মধ্যে চল্লিশ বছরের যে জীবন যাপন করেছিলেন সেখানে তারা কখনো তাঁকে মিথ্যুক , প্রতারক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য অবৈধ পন্থা অবলম্বনকারী হিসেবে পায়নি। এ বিষয়টি অস্বীকার করার কোন উপায়ই তাদের ছিল না। তারা নিজেরাই তাঁর প্রজ্ঞা , বুদ্ধিমত্তা , বিচক্ষনতা , শান্ত প্রকৃতি , সুস্থমতি ও উন্নত নৈতিক চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাই হাজার বাহানাবাজী ও অভিযোগ — দোষারোপ সত্ত্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ব্যাপারেই সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ছিলেন। কেবলমাত্র নবুওয়াতের দাবীর ব্যাপারে নাউযুবিল্লাহ তিনি ছিলেন মিথ্যুক এ বিষয়টি অন্যদের বুঝানো তো দূরের কথা তাদের নিজেদের পক্ষেও মেনে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল।

এভাবে প্রথম দু’টি বিষয়ের তুলনায় তৃতীয় বিষয়টি মেনে নেয়া ছিল মক্কাবাসীদের জন্য অনেক বেশী কঠিন। এ বিষয়টি তাদের সামনে পেশ করা হলে তারা এর সাথে সবচেয়ে বেশী বিদ্রূপাত্মক ব্যবহার করলো। এ ব্যাপারে তার সবচেয়ে বেশী বিস্ময় প্রকাশ করলো। একে তারা সবচেয়ে বেশী অযৌক্তিক ও অসম্ভব মনে করে যেখানে সেখানে একথা ছড়াতে লাগলো যে তা একেবারে অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয় । কিন্তু তাদেরকে ইসলামের পথে নিয়ে আসার জন্য আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসকে তাদের মনের গভীর প্রবেশ করিয়ে দেয়া অপরিহার্য ছিল। কারণ আখেরাতের প্রতি বিশ্বসী না হলে হক ও বাতিলের ব্যাপারে চিন্তার ক্ষেত্রে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারতো না , ভালো মন্দ ও ন্যায় অন্যায়ের ব্যাপারে তাদের মূল্যমানে পরিবর্তন সূচিত হওয়া সম্ভবপর হতো না এবং দুনিয়া পূজার পথ পরিহার করে তাদের পক্ষে ইসলাম প্রদর্শিত পথে এক পা চলাও সম্ভব হতো না। এ কারণে মক্কার প্রাথমিক যুগের সূরাগুলোতে আখেরাত বিশ্বাসের মনের মধ্যে মজবুতভাবে বদ্ধমূল করে দেয়ার ওপরই বেশী জোর দেয়া হয়েছে। তবে এ জন্য এমনসব যুক্তি প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যার ফলে তাওহীদের ধারণা আপনা আপনি হৃদয়গ্রাহী হতে চলেছে। মাঝে মাঝে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের সত্যতা প্রমাণের যুক্তিও সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ যুগের সূরাগুলোতে আখেরাতের আলোচনা বারবার আসার কারণ ভালোভাবে অনুধাবন করার পর এবার এই সূরাটির আলোচ্য বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেয়া যাক। কিয়ামতের খবর শুনে মক্কার পথেঘাটে অলিগলিতে সর্বত্র এবং মক্কাবাসীদের প্রত্যকটি মাহফিলে যেসব আলোচনা , সমালোচনা , মন্তব্য ইত্যাদি শুরু হয়েছিল এখানে সবার আগে সেদিকে ইংগিত করা হয়েছে। তারপর অস্বীকারকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছে , তোমাদের জন্য যে জমিকে আমি বিছানা বানিয়ে দিয়েছি তা কি তোমাদের নজরে পড়ে না ? জমির মধ্যে আমি এই যে উঁচু উঁচু বিশাল বিস্তৃত শ্রেণী গেঁড়ে রেখেছি তা কি তোমাদের নজরে পড়ে না। তোমরা কি নিজেদের দিকে ও তাকাও না , কিভাবে আমি তোমাদের নারী ও পুরুষকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি ? তোমরা নিজেদের নিদ্রাকে দেখো না , যার মাধ্যমে দুনিয়ার বুকে তোমাদেরকে কাজের যোগ্য করে রাখার জন্য আমি তোমাদের কয়েক ঘন্টার পরিশ্রমের পর আবার কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নিতে বাধ্য করেছি ? তোমরা কি রাত দিনের আসা যাওয়া দেখছো না , তোমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যাকে যথারীতি ধারাবাহিকভাবে জারী রাখা হয়েছে। তোমরা কি নিজেদের মাথার উপর মজবুতভাবে সংঘবদ্ধ আকাশ ব্যবস্থাপনা দেখছো না ? তোমরা কি এই সূর্য দেখছো না , যার বদৌলতে তোমরা আলো উত্তাপ লাভ করছে ? তোমরা কি বৃষ্টিধারা দেখছো না , যা মেঘমালা থেকে বর্ষিত হচ্ছে এবং যার সাহায্যে ফসল , শাক সবজি সবুজ বাগান ও ঘন বন জংগল সৃষ্টি হচ্ছে ?এ সব জিনিস কি তোমাদের একথাই জানাচ্ছে যে , যে মহান অপ্রতিদ্বন্দী শক্তিধর এসব সৃষ্টি করেছেন , তিনি কিয়ামত অনুষ্ঠান ও আখেরাত সৃষ্টি করতে অক্ষম ? এই সমগ্র কারখানাটিতে যে পরিপূর্ণ কলাকূশলতা ও বুদ্ধিমত্তার সুস্পষ্ট ষ্ফূরণ দেখা যায় , তা প্রত্যক্ষ করার পর কি তোমরা একথাই অনুধাবন করছো যে , সৃষ্টিলোকের এই কারখানার প্রতিটি অংশ , প্রতিটি বস্তু ও প্রতিটি কর্ম একটি উদ্দেশ্যের পেছনে ধাবিত হচ্ছে কিন্তু মূলত এই কারখানাটি নিজেই উদ্দেশ্যবিহীন ? এ কারখানায় মানুষকে মুখপাত্রের দায়িত্বে নিযুক্ত করে তাকে এখানে বিরাট ও ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী করা হয়েরছ কিন্তু যখন সে নিজের কাজ শেষ করে কারখানা ত্যাগ করে চলে যাবে তখন তাকে এমনিই ছেড়ে দেয়া হবে না এবং ভালোভাবে কাজ করার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হবে না ও পেনশন দেয়া হবে না এবং কাজ নষ্ট ও খারাপ করার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং শাস্তি দেয়া হবে না। এর চাইতে অর্থহীন ও বাজে কথা মনে হয় আর কিছুই হতে পারে না। এ যুক্তি পেশ করার পর পূর্ণ শক্তিতে বলা হয়েছে , নিশ্চিতভাবে বিচারের দিন তার নির্ধারিত সময়ে অবশ্যি আসবে। শিংগায় একটি মাত্র ফুঁক দেবার সাথে সাথেই তোমাদের যেসব বিষয়ের খবর দেয়া হচ্ছে তা সবই সামনে এসে যাবে। তোমরা আজ তা স্বীকার করো বা না করো , সে সময় তোমরা যে যেখানে মরে থাকবে সেখানে থেকে নিজেদের হিসেব দেবার জন্য দলে দলে বের হয়ে আসবে। তোমাদের অস্বীকৃতির সে ঘটনা অনুষ্ঠানের পথ রোধ করতে পারবে না।

এরপর ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত আয়াতে বলা হয়েছে , যারা হিসেব নিকেশের আশা করে না এবং যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে তাদের প্রত্যেকটি কথা ও কাজ গুণে গুণে আমার এখানে লিখিত হয়েছে। তাদেরকে শাস্তি দেবার জন্য জাহান্নাম ওঁৎ পেতে বসে আছে। সেখানে তাদের কর্মকাণ্ডের পুরোপুরি বদলা তাদেরকে চুকিয়ে দেয়া হবে। তারা ৩১ থেকে ৩৬ পর্যন্ত আয়াতে এমন সব লোকের সর্বোত্তম প্রতিদানের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যারা নিজেদেরকে দায়িত্বশীল ও আল্লাহর কাছে নিজেদের সমস্ত কাজের জবাবদিহি করতে হবে মনে করে সবার আগে দুনিয়ার জীবনে নিজেদের আখেরাতের কাজ করার কথা চিন্তা করেছে। তাদের এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে যে , তাদের কার্যবলীর কেবল প্রতিদানই দেয়া হবে না বরং তার চাইতে যথেষ্ট বেশী পুরস্কার ও দেয়া হবে। সবশেষে আল্লাহর আদালতের চিত্র আঁকা হয়েছে। সেখানে কারোর নিজের জিদ নিয়ে গ্যাঁট হয়ে বসে যাওয়া এবং নিজের সাথে সম্পর্কিত লোকদের মাফ করিয়ে নেয়া তো দূরের কথা , অনুমতি ছাড়া কেউ কথাই বলতে পারবে না। আর অনুমতি হবে এ শর্ত সাপেক্ষে যে , যার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে একমাত্র তার জন্য সুপারিশ করা যাবে এবং সুপারিশে কোন অসংগত কথাও বলা যাবে না। তাছাড়া একমাত্র তাদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে যারা দুনিয়ায় সত্যের কালেমার প্রতি সমর্থন দিয়েছে এবং নিছক গুনাহগার আল্লাহর বিধানের প্রতি বিদ্রোহভাবাপন্ন কোন সত্য অস্বীকারকারী কোন প্রকার সুপারিশ লাভের হকদার হবে না।

[error]তারপর এক সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বক্তব্য শেষ করা হয়েছে। বলা হয়েছে , যে দিনের আগমনী সংবাদ দেয়া হচ্ছে সেদিনটি নিশ্চিতভাবেই আসবে। তাকে দূরে মনে করো না । সে কাছেই এসে গেছে। এখন যার ইচ্ছা সেদিনটির কথা মেনে নিয়ে নিজের রবের পথ অবলম্বন করতে পারে। কিন্তু এ সাবধানবাণী সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তাকে অস্বীকার করবে একদিন সমস্ত কর্মকাণ্ড তার সামনে এসে যাবে । তখন সে কেবল অনুতাপই করতে পাবে। সে আফসোস করে বলতে থাকবে , হায় ! যদি দুনিয়ার আমার জন্মই না হতো । আজ যে দুনিয়ার প্রেমে সে পাগলপারা সেদিন সেই দুনিয়ার জন্যই তার মনে এ অনুভুতি জাগবে।[/error][error][/error]

﴿بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ﴾

১) এরা কি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ? 

﴿عَنِ النَّبَإِ الْعَظِيمِ﴾

২) সেই বড় খবরটা সম্পর্কে কি , 

﴿الَّذِي هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ﴾

৩) যে ব্যাপারে এরা নানান ধরনের কথা বলে ও ঠাট্টা – বিদ্রুপ করে ফিরছে ? 

﴿كَلَّا سَيَعْلَمُونَ﴾

৪) কখনো না শীঘ্রই এরা জানতে পারবে৷  

﴿ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ﴾

৫) হাঁ কখখনো না , শীঘ্রই এরা জানতে পারবে৷  

﴿أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهَادًا﴾

৬) একথা কি সত্য নয় , আমি যমীনকে বিছানা বানিয়েছি ?  

﴿وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا﴾

৭) পাহাড়গুলোকে গেঁড়ে দিয়েছি পেরেকের মতো ?  

﴿وَخَلَقْنَاكُمْ أَزْوَاجًا﴾

৮) তোমাদের (নারী ও পুরুষ ) জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি ?  

﴿وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا﴾

৯) তোমাদের ঘুমকে করেছি শান্তির বাহন , 

﴿وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا﴾

১০) রাতকে করেছি আবরণ 

﴿وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا﴾

১১) এবং দিনকে জীবিকা আহরণের সময় ?  

﴿وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا﴾

১২) তোমাদের ওপর সাতটি মজবুত আকাশ স্থাপন করেছি  

﴿وَجَعَلْنَا سِرَاجًا وَهَّاجًا﴾

১৩) এবং একটি অতি উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত বাতি সৃষ্টি করেছি ?  

﴿وَأَنزَلْنَا مِنَ الْمُعْصِرَاتِ مَاءً ثَجَّاجًا﴾

১৪) আর মেঘমালা থেকে বর্ষণ করেছি অবিরাম বৃষ্টিধারা ,  

﴿لِّنُخْرِجَ بِهِ حَبًّا وَنَبَاتًا﴾

১৫) যাতে তার সাহায্যে উৎপন্ন করতে পারি  

﴿وَجَنَّاتٍ أَلْفَافًا﴾

১৬) শস্য , শাক সবজি ও নিবিড় বাগান ?  

﴿إِنَّ يَوْمَ الْفَصْلِ كَانَ مِيقَاتًا﴾

১৭) নিসন্দেহে বিচারের দিনটি নির্ধারিত হয়েই আছে৷  

﴿يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا﴾

১৮) যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে , তোমরা দলে দলে বের হয়ে আসবে৷  

﴿وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبْوَابًا﴾

১৯) আকাশ খুলে দেয়া হবে , ফলে তা কেবল দরজার পর দরজায় পরিণত হবে৷  

﴿وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا﴾

২০) আর পর্বতমালাকে চলমান করা হবে , ফলে তা মরীচিকায় পরিণত হবে৷  

﴿إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا﴾

২১) আসলে জাহান্নাম একটি ফাঁদ ৷  

﴿لِّلطَّاغِينَ مَآبًا﴾

২২) বিদ্রোহীদের আবাস৷  

﴿لَّابِثِينَ فِيهَا أَحْقَابًا﴾

২৩) সেখানে তারা যুগের পর যুগ পড়ে থাকবে৷  

﴿لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا﴾

২৪) সেখানে তারা কোন রকম ঠাণ্ডা পানযোগ্য কোন জিনিসের স্বাদই পাবে না৷  

﴿إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا﴾

২৫) গরম পানি ও ক্ষতঝরা ছাড়া  

﴿جَزَاءً وِفَاقًا﴾

২৬) (তাদের কার্যকলাপের) পূর্ণ প্রতিফল৷  

﴿إِنَّهُمْ كَانُوا لَا يَرْجُونَ حِسَابًا﴾

২৭) তারা কোন হিসেব নিকেশের আশা করতো না৷  

﴿وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا كِذَّابًا﴾

২৮) আমার আয়াতগুলোকে তারা একেবারেই মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল৷  

﴿وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ كِتَابًا﴾

২৯) অথচ প্রত্যেকটি জিনিস আমি গুণে গুণে লিখে রেখেছিলাম ৷  

﴿فَذُوقُوا فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا﴾

৩০) এখন মজা বুঝ , আমি তোমাদের জন্য আযাব ছাড়া কোন জিনিসে আর কিছুই বাড়াবো না ৷  

﴿إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا﴾

৩১) অবশ্যি মুত্তাকীদের জন্য সাফল্যের একটি স্থান রয়েছে৷  

﴿حَدَائِقَ وَأَعْنَابًا﴾

৩২) বাগ – বাগিচা , আঙুর ,  

﴿وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا﴾

৩৩) নবযৌবনা সমবয়সী তরুণীবৃন্দ  

﴿وَكَأْسًا دِهَاقًا﴾

৩৪) এবং উচ্ছসিত পানপাত্র৷  

﴿لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذَّابًا﴾

৩৫) সেখানে তারা শুনবে না কোন বাজে ও মিথ্যা কথা৷  

﴿جَزَاءً مِّن رَّبِّكَ عَطَاءً حِسَابًا﴾

৩৬) প্রতিদান ও যথেষ্ট পুরস্কার তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ,  

﴿رَّبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الرَّحْمَٰنِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًا﴾

৩৭) সেই পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি পৃথিবী ও আকাশসমূহের এবং তাদের মধ্যবর্তী প্রত্যেকটি জিনিসের মালিক , যার সামনে কারো কথা বলার শক্তি থাকবে না৷  

﴿يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا ۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَٰنُ وَقَالَ صَوَابًا﴾

৩৮) যেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে৷ পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যে ঠিক কথা বলবে, সে ছাড়া আর কেউ কথা বলবে না৷ 

﴿ذَٰلِكَ الْيَوْمُ الْحَقُّ ۖ فَمَن شَاءَ اتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِ مَآبًا﴾

৩৯) সেদিনটি নিশ্চিতভাবেই আসবে৷ এখন যার ইচ্ছ নিজের রবের দিকে ফেরার পথ ধরুক৷  

﴿إِنَّا أَنذَرْنَاكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنتُ تُرَابًا﴾

৪০) যে আযাবটি কাছে এসে গেছে সে সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিলাম৷ যেদিন মানুষ সেসব কিছুই দেখবে যা তার দুটি হাত আগেই পাঠিয়ে দিয়েছে এবং কাফের বলে উঠবে , হায় ! আমি যদি মাটি হতাম ৷

 

 


‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

Leave a Reply