Thursday, June 11
Shadow

ইয়াজুজ মাজুজের পরিচয় ও সংখ্যা। – কিয়ামত পর্ব ৯

‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

This entry is part 8 of 9 in the series কিয়ামত

ইয়াজূজ এবং মাজূজ হচ্ছে আদম সন্তানের মধ্যে দু’-টি গোত্র, যেমনটি হাদিস এবং বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ অস্বাভাবিক বেঁটে, আবার কিছু অস্বাভাবিক লম্বা। কিছু অনির্ভরযোগ্য কথা-ও প্রসিদ্ধ যে, তাদের মাঝে বৃহৎ কর্ণবিশিষ্ট মানুষও আছে, এক কান মাটিতে বিছিয়ে এবং অপর কান গায়ে জড়িয়ে বিশ্রাম করে। তা মূলত সহীহ নয়।  বরং তারা হচ্ছে সাধারণ আদম সন্তান। বাদশা যুল কারনাইনের যুগে তারা অত্যাধিক বিশৃঙ্খল জাতি হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। অনিষ্টতা থেকে মানুষকে বাঁচাতে যুল কারনাইন তাদের প্রবেশ পথে বৃহৎ প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। নবী করীম সা. বলে গেছেন যে, ঈসা নবী অবতরণের পর তারা সেই প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে আসবে। আল্লাহর আদেশে ঈসা আ. মুমিনদেরকে নিয়ে তূর পর্বতে আশ্রয় নেবেন। অতঃপর স্কন্ধের দিক থেকে এক প্রকার পোকা সৃষ্টি করে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করবেন।

 

নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসছেঃ  ঐতিহাসিক সেই প্রাচীর নির্মাণ যুল কারনাইনের আলোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ পাক বলেন-  “আবার সে পথ চলতে লাগল। অবশেষে যখন সে দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যস্থলে পৌঁছল, তখন সেখানে এক জাতিকে পেল, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা বললঃ হে যুলকারনাইন! ইয়াজূজ ও মাজূজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। সে বললঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব। তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন সে বললঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন সে বললঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এসো, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই। অতঃপর ইয়াজূজ ও মাজূজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে-ও সক্ষম হল না।” (সূরা কাহফ ৯২-৯৭)

 

ইয়াজূজ-মাজূজের ধর্ম কি? তাদের কাছে কি শেষনবীর দাওয়াত পৌঁছেছে?

পূর্বেই বলা হয়েছে যে, তারা হচ্ছে আদম সন্তানের-ই এক সম্প্রদায়। হাফেয ইবনে হাজার রহ.এর মতে- তারা নূহ আ.-এর পুত্র ইয়াফিছের পরবর্তী বংশধর। ইমরান বিন হুছাইন রা. থেকে বর্ণিত, কোন এক ভ্রমণে আমরা নবীজী সাথে ছিলাম। সাথীগণ বাহন নিয়ে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ল। নবীজী উচ্চকণ্ঠে পাঠ করলেন- “হে লোক সকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুতঃ আল্লাহর আযাব বড় কঠিন।” (সূরা হাজ্ব ১-২)

 

নবীজীর উচ্চবাক্য শুনে সাহাবাগণ একত্রিত হতে লাগলেন, সবাই জড়ো হলে বলতে লাগলেন- “তোমরা কি জান- আজ কোন দিবস? আজ হচ্ছে সেই দিবস, যে দিবসে আদমকে লক্ষ্য করে আল্লাহ বললেনঃ জাহান্নামের উৎক্ষেপণ বের কর! আদম বলবেঃ জাহান্নামের উৎক্ষেপণ কি হে আল্লাহ..!? আল্লাহ বলবেন- প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন জাহান্নামে আর একজন শুধু জান্নাতে!! নবীজীর
কথা শুনে সাহাবাদের চেহারায় ভীতির ছাপ ফুটে উঠল। তা দেখে নবীজী বলতে লাগলেন- আমল করে যাও! সুসংবাদ গ্রহণ কর! সেদিন
তোমাদের সাথে ধ্বংসশীল আদম সন্তান, ইয়াজূজ-মাজূজ এবং ইবলিস সন্তানেরা-ও থাকবে, যারা সবসময় বাড়তে থাকে (অর্থাৎ ওদের থেকে নয়শ নিরানব্বই জন জাহান্নামে, আর তোমাদের থেকে একজন জান্নাতে)।   সবাই তখন আনন্দ ও তৃপ্তির নিশ্বাস ছাড়ল। আরো বললেন- আমল করে যাও! সুসংবাদ গ্রহণ কর! ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ নিহিত! মানুষের মাঝে তোমরা সেদিন ঊটের গায়ে ক্ষুদ্রচিহ্ন বা জন্তুর বাহুতে সংখ্যাচিহ্ন সদৃশ হবে।-” (তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ)

অর্থাৎ হাশরের ময়দানে ইয়াজূজ-মাজূজ, পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি এবং ইবলিস বংশধরদের উপস্থিতিতে তোমাদেরকে মুষ্টিমেয়
মনে হবে। ঠিক উটের গলায় ক্ষুদ্র চিহ্ন আঁকলে যেমন দেখা যায়, হাশরের ময়দানেও তোমাদের তেমন দেখাবে।

চলবে….

 

মূল লেখকঃ  ((najmul hassaan))

Series Navigation<< দাব্বাতুল আরদ কী? – কিয়ামত পর্ব ৮

‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’। লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথেঃ

Leave a Reply